সাংবাদিকতা জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে ॥  মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার  

0
699
views

মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার—পেশায় সাংবাদিক। এছাড়া অভিনয় ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত তিনি। এখনও কোনো বই প্রকাশিত হয়নি এই লেখকের।। সাংবাদিকতা ও লেখালেখি নিয়েই তিনি কথা বলেছেন সুতরাংয়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি কেন সাংবাদিকতা পেশা বেছে নিলেন?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  সবসময় আমাকে রোমাঞ্চকর বিষয় আকর্ষণ করে এবং নতুনকে জানার বিষয়ে কৌতূহল চিরদিনের। সেই জায়গা থেকে আসলে শখের বসে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুরু করি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি একজন লেখক। সে হিসেবে সাংবাদিকতা পেশা কি লেখকের জন্য সহায়ক না প্রতিবন্ধক?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  আমি মনে করি, একজন লেখকের জন্য সাংবাদিকতা প্রতিবন্ধকতা বা অন্তরায় নয়। আাসলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আপনি নতুন ঘটনা বা তথ্য পাবেন, যা আপনাকে নতুন লেখনীতে রসদ জোগাবে। ফলে এটি আপনাকে সহযোগিতা করবে বলে মনে করি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার করা কোনো সংবাদ বা সাহিত্য জনকল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছে?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  আসলে আমার লেখা বা প্রতিবেদন  জনকল্যাণে ভূমিকা রেখেছে কি না, এমন উত্তর দেওয়া কঠিন। লেখালেখি  ও সাংবাদিকতা সবে শুরু বলা যায়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রয়াস রয়েছে জনকল্যাণের জন্য। আমি আমার লেখায়  সামাজিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি সাংবাদিকতা করতে গিয়ে লেখক হলেন, না কি লেখালেখি করতে এসে সাংবাদিক হয়েছেন?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  আসলে স্কুলজীবন থেকেই আমি লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর সেই জায়গা থেকে মুলত সাংবাদিকতার প্রতি ঝুঁকেছি। আমি ব্যক্তিগত জীবনে বিষয়টি উপভোগ করছি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার কাছে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মধ্যে কেমন পার্থক্য অনুভূত হয়?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  হ্যাঁ সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাংবাদিকতা বাস্তব বিষয়কে উপস্থাপন করে। এখানে রঙিন স্বপ্ন দেখা  বা কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে রসদ যোগানোর সুযোগ নাই কিন্তু সাহিত্যে এমনটির সুযোগ রয়েছে।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি ও সাংবাদিকতা দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুটি ক্ষেত্র আপনার জীবনধারণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  সাংবাদিকতা জীবনধারণে প্রভাব ফেলে। আসলে আপনি স্বাভাবিক জীবন যাপনের এবং নিশ্চিন্তে ঘুমানোর চিন্তাটি কল্পনায় আনতে পারবেন না। তবে আপনি এ পেশায় বাড়তি উন্মাদনা বা রোমাঞ্চ উপভোগ করবেন।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় পারিবারিক সহযোগিতা কেমন মনে হয়?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  আমার ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ। আসলে আমার লেখালেখির প্রতি উৎসাহ পরিবার থেকেই পাওয়া। এছাড়া শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে এ বিষয়ে উৎসাহ জোগান এবং সহযোগিতা করেন। সেক্ষেত্রে তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।  আমি আশা করি  সবসময় তারা এভাবে আমার পাশে থাকবেন।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: অন্য কোনো সুযোগ পেলে (সরকারি বা বেসরকারি) কি এ পেশায় থাকবেন?
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার:  আসলে বাংলাদেশের মানুষের সরকারি চাকরির প্রতি একটি ঝোঁক রয়েছে। তবে আমি সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি বেশি আন্তরিক। আপনার সৃষ্টিশীল কাজই পারে আপনাকে মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে। সেক্ষেত্রে আমি নিজেকে সৃষ্টিশীল কাজের মাঝে নিয়োজিত রাখতে চাই। পেশা হিসাবে সাংবাদিকতার বিষয়ে বলতে চাই এটি পেশা হিসাবে গ্রহণ করার ইচ্ছা আছে। তবে ছাত্রজীবন শেষ হলে এই পেশায় নিয়োজিত থাকবো কি না, এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। লেখালেখির সঙ্গে আজীবন সম্পৃক্ত থাকবো, এমনটির নিশ্চয়তা দিতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here