সাংবাদিক বা লেখক হওয়ার আগে ভালো মানুষ হতে হবে ॥ ফখরুল হাসান

0
276
views

ফখরুল হাসান—দৈনিক মুক্তির আশার সম্পাদক। এছাড়া লেখালেখি করেন বিভিন্ন বিষয়ে। ‘দহন-দিনের গান’, ‘নিমগ্ন দহন’ ও ‘হৃদয় পোড়া গন্ধ’ নামে তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে তার। সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকে পেশা এবং নেশা হিসেবেই বেছে নিয়েছেন তিনি। এসব নিয়েই কথা বলেছেন সুতরাংয়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি কেন সাংবাদিকতা পেশা বেছে নিলেন?
ফখরুল হাসান : ‘Media is a mirror of a nation or a country.’ অর্থাৎ মিডিয়া হলো একটা জাতি বা রাষ্ট্রের দর্পণ। হোক সেটা ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রিন্ট মিডিয়া বা অনলাইন। এটা এমনই এক আয়না, যে আয়নাতে একটা সমাজের বাস্তবচিত্র,জনমানুষের আবেগ বা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। আর সেটা করে সংবাদকর্মী। তাই সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এ পেশাটা মন্দ নয়।এটা জনমানুষের হৃদয়ে স্থান করার মতো একটা প্লাটফর্ম। সেই চিন্তাধারা থেকেই সাংবাদিকতায় আসা।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি একজন লেখক। সে হিসেবে সাংবাদিকতা পেশা কি লেখকের জন্য সহায়ক না প্রতিবন্ধক?
ফখরুল হাসান: অবশ্যই সহায়ক। একজন লেখক হওয়ার সুবাদে সাংবাদিকতা আরও সহজ আমার জন্য। কারণ আমার কাজই তো লেখালেখি করা। এ পেশায় সেটা আরও বেগবান হবে বলে আশা করি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার করা কোনো সংবাদ বা সাহিত্য জনকল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছে?
ফখরুল হাসান: একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি সবসময়ই ভালো নিউজ করার চেষ্টা করি। মানুষের মধ্যে সচেতনতা যেন সৃষ্টি হয়, সেরকম নিউজগুলোকে প্রধান্য দেই সবসময়। আর সাহিত্যিক হিসেবে অবশ্যই আমি আশাবাদী যে, আমার লেখা মানুষের চিন্তাধারাকে পাল্টে দেবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে আমার অবস্থান দৃঢ়। আমার লেখা কবিতা, ছড়া ও গল্প জীবনমুখী। যেগুলো মানুষের মনে নাড়া দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর এই লেখাগুলো পড়েই আগামীর মানুষটি তৈরি হবে।তাই এটা বলাই যায় লেখাগুলো জনকল্যাণকর।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি সাংবাদিকতা করতে গিয়ে লেখক হলেন, না কি লেখালেখি করতে এসে সাংবাদিক হয়েছেন?
ফখরুল হাসান: প্রথমত আমি লেখক, দ্বিতীয় লেখক, তারপর সাংবাদিক। একজন কবি একজন স্রষ্টা। একইসঙ্গে তিনি একজন ব্যক্তিও। ব্যক্তিমানুষটি সাংবাদিক আর স্রষ্টামানুষটি লেখক।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার কাছে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মধ্যে কেমন পার্থক্য অনুভূত হয়?
ফখরুল হাসান: অবশ্যই পার্থক্য আছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিউজগুলো সাহিত্য নয়। সাহিত্য আলাদা বিষয়, যেখানে ভাব, চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা বিরাজমান সেখানে সাহিত্যিক একজন স্রষ্টা, সাহিত্যিকদের কাজ হচ্ছে নতুনত্ব সৃষ্টিতে মেতে থাকা। কিন্তু নিউজগুলো যেকোনো ঘটনার হুবহু বর্ণনা, এখানে এত ভাবধারার প্রয়োজন নেই। এটা বেশ তথ্যবহুল। যদিও প্রবন্ধে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়, তবু নিউজগুলো প্রবন্ধ নয়।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি ও সাংবাদিকতা দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুটি ক্ষেত্র আপনার জীবনধারণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না?
ফখরুল হাসান: কোন কাজে ঝুঁকি নেই? আজকাল তো রাস্তায় বের হওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই বলে কি সব থেমে থাকবে? যেকাজে সমাজের উপকার হবে, একটা দেশের সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে, সে কাজ যতই ঝুঁকিপূর্ণ হোক, আমি করবো। কারণ প্রথমত আমি একজন মানুষ,তাই মানুষ হিসেবে সমাজের দর্পণকে এগিয়ে নেওয়া আমার দায়িত্ব বলে মনে করি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় পারিবারিক সহযোগিতা কেমন মনে হয়?
ফখরুল হাসান: আসলে এটা এমনি এক পেশা, যেখানে পরিবারকে দেওয়ার মতো সময় থাকে না। তবু পরিবার থেকে আমি যথেষ্ঠ সহযোগিতা পাই। তবে খুব কাছের বন্ধুদের অভিযোগ একটু বেশি আমার বিরুদ্ধে। মা তো মাঝে মাঝে অভিমান করে ফোনে কথাই বলতে চায়।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: অন্য কোনো সুযোগ পেলে (সরকারি বা বেসরকারি) কি এ পেশায় থাকবেন?
ফখরুল হাসান: দেখুন, প্রত্যেকটা মানুষই তার উন্নতি চায়। তবু পরবর্তী সময়ে কী হবে সেটা সময়ের ওপর ছেড়ে দিলাম। দেখা যাক কী হয়!

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: যারা সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করতে চান, তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?
ফখরুল হাসান: সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা, অবশ্যই এখানে আপনার সততা ও নিষ্ঠার সঙেগ কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করছেন তাই, কোনোরকম ফেইক নিউজ করে বিভ্রান্ত ছড়ানো যাবে না। আলোকে আলো। আর কালোকে কালো ভেবে কাজ করতে হবে। আর একজন লেখক তো সৃষ্টিশীল মানুষ। তার লেখাগুলো পড়ে আগামী প্রজন্ম মানুষ হবে। তাই একজন লেখককে এসব বিষয় মাথায় রেখেই লিখতে হবে। যেহেতু একজন লেখক সমাজের জন্য মডেলস্বরূপ তাই তার আচরণ ও চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্যও ভালো হওয়া উচিত। সাংবাদিকতা এবং লেখালেখি দুটোই মহান কাজ। তাই যারা এ পেশায় আসতে চান তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলব, আপনি সাংবাদিক বা লেখক হওয়ার আগে ভালো মানুষ হোন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here