সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জন্য গভীর সাধনার প্রয়োজন ॥ মিজানুর রহমান মিথুন

0
142
views

মিজানুর রহমান মিথুন—পেশায় সাংবাদিক। এছাড়া লেখালেখি করেন বিভিন্ন বিষয়ে। তাছাড়া এক ডজনের মতো শিশুতোষ বই প্রকাশিত হয়েছে তার। সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকে পেশা এবং নেশা হিসেবেই বেছে নিয়েছেন তিনি। এসব নিয়েই কথা বলেছেন সুতরাংয়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি কেন সাংবাদিকতা পেশা বেছে নিলেন?
মিজানুর রহমান মিথুন: কোনো রকমের পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সাংবাদিকতায় এসেছি। তবে কিভাবে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করলাম তা বলা যেতে পারে; ঢাকায় এসে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদপত্রে লেখালেখি, কোনোটিতে খণ্ডকালীন চাকরি কোনোটিতে কন্ট্রিবিউটর (প্রদায়ক) কাজ হিসেবে কাজ করেছি। এতে যা আয় হয়েছে, তাতে লেখাপড়ার খরচ হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা আনতে হয়নি। এভাবেই একসময় সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িয়ে গেছি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি একজন লেখক। সে হিসেবে সাংবাদিকতা পেশা কি লেখকের জন্য সহায়ক না প্রতিবন্ধক?
মিজানুর রহমান মিথুন: শুধু সাংবাদিকতা নয়, একজন লেখকের যেকোনো পেশাই তার লেখালেখির জন্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। আমাদের দেশে লেখালেখি এখনো পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। হয়তো হাতোগোনা দুয়েকজন লেখক লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিতে পেরেছেন, তাদের কথা উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যায় না বলে আমি মনে করি। অধিকাংশ লেখকের ক্ষেত্রেই লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেওয়া কঠিন ব্যাপার। নতুন ও তরুণ লেখকদের জন্য তা আরও দুঃসাধ্য।  তাই জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্য আট-দশজন মানুষের মতো একজন লেখককেও যেকোনো একটি পেশা বেছে নিতে হয়। লেখালেখির মতো সাংবাদিকতাও একটি সৃজনশীল কাজ। সৃজনশীল মানুষ সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সৃজনলীতা বৃদ্ধি পায়। তবে লেখালেখির জন্য সাংবাদিকতা একদম প্রতিবন্ধকতামুক্ত নয় বলে আমার মনে হচ্ছে।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার করা কোনো সংবাদ বা সাহিত্য জনকল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছে?
মিজানুর রহমান মিথুন: এই মুহূর্তে মনে পড়ছে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শেখ জমির উদ্দিনকে নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছিলাম। তিনি দীর্ঘদিন নানা ধরনের কঠিন রোগে ভুগছিলেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। শেখ জমির উদ্দিনকে নিয়ে রিপোর্ট করার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তবে আমার সাহিত্য মানব কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে কি না, তা বলতে পারছি না। সাহিত্য মানুষের মনোজগতে ধীরে ধীরে ছাপ ফেলে তাই একজন লেখকের পক্ষে জনকল্যাণের কথা জানাটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও বটে।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি সাংবাদিকতা করতে গিয়ে লেখক হলেন, না কি লেখালেখি করতে এসে সাংবাদিক হয়েছেন?  
মিজানুর রহমান মিথুন: আসলে লেখালেখি করতে এসেই সাংবাদিক হয়ে গেছি। আমাদের দেশে এটা বোধহয় অনেক লেখকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার কাছে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মধ্যে কেমন পার্থক্য অনুভূত হয়?
মিজানুর রহমান মিথুন: সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা দুটো সৃজনশীল কাজ হলেওে এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাহিত্যের কাজ মানুষের জীবনবোধকে তুলে ধরার পাশাপাশি আনন্দ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করা। আর সাংবাদিকতার কাজ হচ্ছে সমাজের ও রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বিষয়াবলি মানুষকে জানিয়ে দেওয়া। বলতে পারেন একজন বার্তা বাহকের কাজ করা।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি ও সাংবাদিকতা দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুটি ক্ষেত্র আপনার জীবনধারণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না?
মিজানুর রহমান মিথুন : শুধু আমাদের দেশের নয় বিশ্বের অনেক দেশেই লেখালেখি ও সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে বিবেচিত। তবে আমার জীবনে এখনো এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ভবিষ্যতের কথা তো আর বলতে পারছি না। লেখালেখি ও সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দুটিই মানব জীবনকে বদলে দেওয়ার কাজ। এমন একটি কাজের সঙ্গে কিছুটা ঝুঁকি  থাক না, মন্দ কী!

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় পারিবারিক সহযোগিতা কেমন মনে হয়?
মিজানুর রহমান মিথুন: লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় পারিবারিকভাবে সহযোগিতা পাইনি। তবে কেউ একাজে বাধা দেননি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: অন্য কোনো সুযোগ পেলে (সরকারি বা বেসরকারি) কি এ পেশায় থাকবেন?
মিজানুর রহমান মিথুন: শুধু আমি নই প্রতিটি মানুষই তার বর্তমান পেশার চেয়ে ভালো কোনো পেশার প্রস্তাব পেলে তা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে আমি এর ব্যতিক্রম নই।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: যারা সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করতে চান, তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?
মিজানুর রহমান মিথুন: কাউকে উপদেশ বা পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান আমি এখনো অর্জন করিনি। তবে এতদিনে আমার মনে হয়েছে সাংবাদিকতা এবং লেখালেখির জন্য গভীর অধ্যবসায় ও সাধনার প্রয়োজন। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত এই অধ্যবসায় চালিয়ে যেতে হয়। তাই নতুনদের জন্য বলবো একনিষ্ঠ সাধনার মানসিকতা নিয়ে এই পেশায় আসতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here