সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় পার্থক্য নেই ॥ সাখাওয়াত হোসেন সুজন

0
47
views

সাখাওয়াত হোসেন সুজন পেশায় সাংবাদিক। এছাড়া লেখালেখি করেন বিভিন্ন বিষয়ে। ‘যদি কখনো ভালোবাসো’ ও ‘তূর্য’ নামে দুটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে তার। সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকে পেশা ও নেশা হিসেবেই বেছে নিয়েছেন তিনি। এসব নিয়েই কথা বলেছেন সুতরাংয়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাশিল্পী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি কেন সাংবাদিকতা পেশা বেছে নিলেন?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: সাহিত্যের প্রতি টান থেকেই সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি একজন লেখক সে হিসেবে সাংবাদিকতা পেশা কি লেখকের জন্য সহায়ক না প্রতিবন্ধক?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: আমি লেখালেখি করি। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি সাংবাদিকতাকে। সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যে পেশাটা অত্যন্ত নিবিড় সেটাই সাংবাদিকতা। তাই নিঃসন্দেহে এই পেশাটা লেখকের জন্য সহায়ক। তাই বলে সব লেখক সাংবাদিকতা বেছে নেবেন না। বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের স্রষ্টারা এর উত্তম উদাহরণ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার করা কোনো সংবাদ বা সাহিত্য জনকল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছে?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: লেখালেখির শুরুতেই মানুষ লেখকের লেখার ম্যাসেজগুলো ধরতে শুরু করে। ব্যাপকহারে পড়তে শুরু করে এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। বিশ্বায়নের একটা বদ হাওয়া আমাদের সমাজে লেগে পরিবার প্রথাগুলোকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দাম্পত্যকে করছে অসুখী। আমি আমার লেখায় সামাজিক ও পারিবারিক কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেছি। যেমন আমার ‘যদি কখনো ভালোবাসো’ নামের গল্পগ্রন্থের বেশকিছু গল্পের ম্যাসেজ হচ্ছে পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর করা। ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা না পেলেও কিছুটা সাড়া পেয়েছি। আমার ‌‘চুমু’ গল্প পড়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই কেঁদেছেন এমনটাও পেয়েছি। তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ওই বইয়ের গল্প আরো জোরালো করেছে। সে হিসেবে বলতে পারেন ওটা আমার সাহিত্যের জনকল্যাণ। আর সংবাদের মাধ্যমে সংবাদকর্মীরা যে জনকল্যাণ করে থাকেন তার উদাহরণ না দেয়াই ভালো কারণ ওটাই তো পেশা। ওই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই সে গণমাধ্যমে এসেছে। ভালোর প্রচার মানুষকে আগ্রহী করে মন্দের প্রচার সতর্ক করে। দুটোই জনকল্যাণ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনি সাংবাদিকতা করতে গিয়ে লেখক হলেন না কি লেখালেখি করতে এসে সাংবাদিক হয়েছেন?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: আমি লেখালেখি করতে গিয়ে যখন বুঝেছি তার সঙ্গে সাংবাদিকতাটাই সবচেয়ে বেশি যায় তখন সাংবাদিক হওয়ার চেষ্টা শুরু করি। আর এ পেশায় এসেছি। পেশাটাকেই ভালো লেগেছে। তাই অনিশ্চয়তা থাকার পরও  একে আঁকড়ে ধরেছি।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: আপনার কাছে সাহিত্য সাংবাদিকতার মধ্যে কেমন পার্থক্য অনুভূত হয়?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: সাংবাদিকতাও একটা সাহিত্য। যাকে ‘লিটারেচার ইন হারি’ বা দ্রুততার সাহিত্য বলে। তবে সাহিত্যের আবেদনটা বেশিদিন টিকে থাকে। তাই সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য বলা চলে থেকেও নেই।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি সাংবাদিকতা দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ এই দুটি ক্ষেত্র আপনার জীবনধারণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: মানুষ জন্ম নেয় বলেই তাকে মৃত্যুর ঝুঁকিটা নিতেই হয়! পথে জীবনহানির হাজারো সম্ভাবনা তবুও তো আমরা পথ চলি। তাই লেখালেখি ও সাংবাদিকতা এ দুটোর ঝুঁকি নিয়েই পথ চলি। বাস্তবতা হলো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা সবাই অনিরাপদ!

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: লেখালেখি সাংবাদিকতায় পারিবারিক সহযোগিতা কেমন মনে হয়?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় পরিবারের কোনো সম্মতিই নেই! পরিবার কখনো চায়নি আমি লেখক কিংবা সাংবাদিক হই। এটা আমার নিজের চাওয়া। নিজে থেকেই বেছে নেওয়া।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: অন্য কোনো সুযোগ পেলে (সরকারি বা বেসরকারি) কি এ পেশায় থাকবেন?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার চারিত্র্যপূজায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটা কথা লিখেছেন। তা হলো—‘চাকরি না থাকিলে আলু-পটল বেচিয়া খাইবো’। কথাটা আমারও! আমার মনে হয় না আর কিছু পারবো। আমি কখনো পেশা পরিবর্তনের চেষ্টা করিনি। রিজিকদাতা একজন আছেন, তার ওপরই আমার ভরসা।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: যারা সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করতে চান, তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?
সাখাওয়াত হোসেন সুজন: পরামর্শ দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠা আমার নেই। ওটা পরামর্শ দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা। কিন্তু যারা সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করতে চান তাদের বলবো প্রচুর পড়ুন। কষ্ট করতে শিখুন। হয়তো বা জীবিত অবস্থায় সাফল্যের দেখা নাও মিলতে পারে। সেটা ভেবেই পথ চলুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here