একটাকার গল্প ॥ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

0
101
views

ছোটবেলায় মায়ের কাছে কখনোই টাকা চাইতাম না। জানতাম, মায়ের কাছে টাকা থাকে না। মা তো আর উপার্জন করেন না। তাই গ্রামে আইসক্রিমঅলা এলে মা কাঁকর মেশানো ধান দিতেন। সেই ধান দিয়ে আইসক্রিম নিতাম। উঠোন বা ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে ৫-১০ পয়সা কুড়িয়ে পেলে আমার হাতে দিতেন। কুড়ানো পয়সা জমাতে জমাতে একটাকা হতো। একটাকাই তখন আমার কাছে অনেক টাকা।

এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে প্রাইমারি স্কুলে যেতাম। দুপুরে টিফিনের জন্য তেমন বরাদ্দ ছিল না। তবে ২-৪ টাকা দরকার হলে বাবার পকেট থেকে চুরি করতাম। সেই বয়সে আমার সহপাঠী কেউ কেউ মানিব্যাগ ব্যবহার করতো। তার ভেতরে থাকতো দশ, বিশ, পঞ্চাশ বা একশ টাকার নোট। আমি অবাক হতাম। কারণ আমার বাবার কোনো মানিব্যাগই ছিল না। তিনি রুমালে পেঁচিয়ে পাঞ্জাবির পকেটে রাখতেন। ফলে আমি টাকা নিলেই তিনি বুঝে ফেলতেন। আমাকে দেখলে মুচকি মুচকি হাসতেন। আমি লজ্জা পেতাম।

ওই সময় দুই টাকায় অনেক কিছু কেনা যেতো। তাই ৫ টাকার নোট হাতে নিতে বুক কাঁপতো। এত টাকা নিয়ে কী করবো? তখন একটাকায় চারটি বিস্কুট পাওয়া যেতো। আবার ভনভনি, মনাক্কা, বাদামও কেনা যেতো। চারটি চকলেট কিনতাম একটাকায়। সারা দিন পকেটে নিয়ে ঘুরতাম। বিরতি নিয়ে নিয়ে একটা করে খেতাম। কখনো কখনো চার আনার একটি চকলেট দু’জনেও ভাগ করে খেয়েছি।

একবার মা তার কোনো এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়ি গেলেন নানির সঙ্গে। আমি অতদূর যেতে পারবো না বলে আমাকে বাড়িতে রেখে গেলেন। হাতে দিয়ে গেলেন একটাকা। একটি পাঁচ পয়সা, দুটি দশ পয়সা, একটি চার আনা ও একটি আট আনা। আমি মহাখুশি। আমার হাতে পয়সাগুলো ঝনঝন করে ওঠে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সেই একটাকায় আমি অনেক কিছু খেয়েছি।

আজ এসব কেবল গল্পই মনে হবে। এখন চাকরি করি। বেতনও খারাপ নয়। তবু এখনো বাবা-মার হাতে সেই একটাকা-দু টাকাও তুলে দিতে পারি না। সব খরচ হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here