রাইটার্স ক্যাম্প ও মশিউল আলম: আমার অনুভূতি ॥ কাজী মহম্মদ আশরাফ

0
64
views

কথাসাহিত্যিক মশিউল আলমকে নিয়ে রাইটার্স ক্যাম্প আয়োজিতব্য অনুষ্ঠানের কার্ড ইনবক্সে পাঠিয়ে ছিলেন সাখাওয়াত টিপু ভাই। শুরুতেই অনুষ্ঠানে থাকার ইচ্ছা ছিল। দাওয়াত পেয়ে খুশি হয়েছি।

মশিউল আলমের লেখা পড়তাম নব্বই দশক থেকে (১৯৯৬/৯৭/৯৮ এর দিকে) অধুনালুপ্ত ‘পাক্ষিক শৈলী’র মাধ্যমে। নিয়মিত গ্রাহক ছিলাম। ঈদসংখ্যা শৈলীতে মশিউল আলমের নিজের উপন্যাস বা অনূদিত উপন্যাস থাকত।

২৯ জুন ২০১৮, শুক্রবার সময় পেয়ে অনুষ্ঠানে গিয়ে ভালো লাগল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বহুবছর পরে গিয়ে দেখলাম আমার সেই কৈশোরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নাই। ১৯৯৪/৯৫/৯৬ সালে ছিলাম সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ পাঠচক্র, রবীন্দ্র পাঠচক্রে ক্লাস করতাম প্রতি শুক্রবার। সেখানেই পরিচয় পাই আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবদুল মান্নান সৈয়দ, মুস্তাফা নূর উল ইসলাম, বেলাল মোহাম্মদ, আহমাদ মাযহার, আমীরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান রিটন, মেজর রফিকুল ইসলাম, কে এম শফিউল্লাহ, কাদের সিদ্দিকী, কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর সি আর দত্ত, কর্নেল কাজী নূরুজ্জামানসহ অনেক মুক্তিযুদ্ধের নায়ক, অধিনায়ক এবং লেখক সাহিত্যিকদের।

দুই যুগ পরে সেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গিয়ে গতকাল দেখা পেলাম অনেকের। মাহবুব মোর্শেদ, ফিরোজ আহমেদ, সাখাওয়াত টিপু, ফারুক ওয়াসিফ, কাজী নাসির মামুন, পলিয়ার ওয়াহিদ, চঞ্চল আশরাফ, নূরুল কবীর, রেজাউল করিম রনিসহ অনেকের। তাদের মধ্যে অনেকের সাথে দেখা সাক্ষাতের ধারাবাহিকতা আছে, অনেকের সাথে আছে ফেসবুক বন্ধুত্ব। কিন্তু দুই দশক আগে একদিন আমার ঘরে এসে মশারি থেকে ডেকে তুলে আড্ডা দিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জে নানা বাড়ি বেড়াতে আসা সাঈদ জুবেরীর সাথে অনেক বছর পরে দেখা।

অভিমত
১. মশিউল আলমের পঠিত ব্যক্তিনিষ্ঠ প্রবন্ধটিতে তার শিক্ষা জীবন, দেশ কাল, রাজনীতি, রুশযাত্রা, সোভিয়েতের পতন, লেখালেখির কারণ, সূত্র ইত্যাদি তুলে ধরেছেন। পুরাটা শোনার কারণে তার লেখা বুঝতে আরো সহজ হবে।

২. মশিউল আলম নিজের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত’কে প্রিম্যাচিউর বেবি বলে আখ্যায়িত করে অনেকটা বাতিল করে দিতে চেয়েছেন। আমার বিবেচনায় এটির গুরুত্ব আছে। গুরুত্বটা ঐতিহাসিক। নতুন করে পড়ার সময়, একই সময় সমান্তরাল পড়তে থাকা বরিস পাস্তেরনাকের ‘ডক্টর জিভাগো’র মতো গুরুত্ব দেখছি। যদিও মশিউল আলম আসলে পাস্তেরনাকের মতো অত উঁচু মানের লেখা লেখেন নাই। তবুও আমার কাছে মিলের জায়গা, বরিস পাস্তেরনাক ‘ডক্টর জিভাগো’তে দেখিয়েছেন বলশেভিক বিপ্লব, রুশ বিপ্লব বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দৃশ্য। আর মশিউল আলম ‘তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত’এ দেখিয়েছেন সমাজতন্ত্রের পতন বা প্রতিবিপ্লবের দৃশ্য।
এ বিষয়ে আমার জানার ইচ্ছা আছে কিন্তু পড়া অতি সামান্য। ১৯৯০/৯১ সালে সমাজতন্ত্রের বা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময়কার কলকাতার প্রতিক্রিয়া নিয়ে লেখা দেবেশ রায়ের ‘ইতিহাসের লোকজন’, আর ঢাকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে লেখা জাকির তালুকদারের ‘১৯৯২’ পড়েছি মাত্র।
খোদ মস্কোর চিত্রগুলো ধারণ করে ‘তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত’ একটি ঐতিহাসিক অবদান রেখেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here