মনীষীদের জীবন কাহিনী পড়ে  নিজেকে গড়ে তুলি ॥ মো. রমজান আলী

0
141
views

[ব্যক্তিগতভাবে ব্যক্তিকে চেনা খুব একটা সহজসাধ্য হলেও সামষ্টিকভাবে কাউকে মূল্যায়ন করা অনেকটাই দুরূহ হয়ে পড়ে। ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের সীমাহীন বিকাশের মাধ্যমে একদিকে যেমন সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন, তেমনি তার পরিমণ্ডলে উজ্জ্বলতা বিকিরণ করে অসামান্য তারকাখ্যাতি অর্জন করে একসময়ে প্রতিষ্ঠানে রূপ নেন। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি তখন আর ব্যক্তি বিশেষ থাকেন না। তার ডালপালা শাখাপ্রশাখায় চিরহরিত পত্রপল্লবে ভরে ওঠে। দিগন্তবিস্তারী এ বৃক্ষশোভিত বৃক্ষের পদভারে মুখরিত হয় পাড়া। পুর্ব দিক থেকে পশ্চিমে অথবা উত্তর থেকে দক্ষিণে তার ছায়াশোভিত বিস্তার মানুষকে মুহূর্তের জন্য বিমোহিত করে রাখে। প্রবহমান বাতাসের ছন্দে-তালে আমরা যেমনটি প্রাণের প্রণোদোনা খুঁজে পাই, তেমনিভাবে আকাশের নীহারিকা পাতালের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বালুকণার সুবিন্যস্ত বিন্যাস আমাদের হৃদয়ে মনে মননে একপ্রকার দাগ কেটে যায়।ঠিক সেভাবেই একজন মানুষ হৃদয়ের সমস্ত আকুলতা ঢেলে দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয় আপন মহিমায় ভাস্বর হয়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, যে মানুষটি যত প্রজ্ঞাময় তার ভেতরে বিনয়ের ভাণ্ডার তত সজ্জিত।

নীতি আর নৈতিকতা কিংবা নৈতিক মূল্যবোধ যথার্থই মানুষের জীবনকে সৌন্দর্য্যমণ্ডিত করে তোলে। আমরা জানি, মানবিকতার সঙ্গে নৈতিকতার বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। পরম সাধনা ছাড়া মানুষ এ বিশেষ গুণসমূহ অর্জন করতে পারে না। সততা-ন্যায়পরায়ণতা-আদর্শবাদিতা; এসব গুণের সমন্বয়ে নৈতিকতার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। মানুষ যতদিন সমৃদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী হয়ে এই নৈতিক আদর্শকে সমুন্নত রাখবে, ততদিন তার গৌরব বিকশিত হবে।

মানুষের মাঝে মানবিকতার নান্দনিকতা পরিস্ফুটনের সহজসাধ্য কাজটি সহজেই সম্পাদন করতে প্রায়শ দেখা যায় না। একজন মানুষকে প্রকৃত বিবেচনায় আমরা তখনই মানুষ বলি, যখন দেখি সে আপন আচরণের অনুপম মাধুর্যমণ্ডিত হয়ে নিজকে পুরোপুরি সমর্পণ করে দিচ্ছে অন্যের হৃদয়ে। অতপর প্রাণের স্পন্দন থাকলেই আমরা তাকে প্রাণী বলি। আর প্রাণী মানেই মানুষ নয়। মানুষকে মানুষ হতে হলে তার ভেতরে অতি মাত্রায় মানবিকতার স্ফুরণ থাকতে হয়। মানুষ মানুষের মতোই কথা বলবে, তার সে কথায় ছন্দ থাকবে প্রবহমানতা থাকবে, থাকবে সৌকর্য্য আর সুষমায় ভরে উঠবে চারপাশের পরিবেশ। মানুষকে কথা বলতে কখনো নান্দনিকতার আশ্রয় নিতে দেখা যায়, আবার কখনো সে কর্কশ কণ্ঠে কথা বলে। যে কণ্ঠেই সে কথা বলুক তার ভেতর একটা মার্জিত ভাব থাকা অপরিহার্য বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।

আমাদের বন্ধু মেয়র মো. রমজান আলীর প্রসঙ্গ এখানে টেনে আনা যায়। অবিরাম সাধনা, ক্রমাগত প্রচেষ্টা আর সুদৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি রমজান এখন মহীরূহ ছায়াঘন একটি প্রতিষ্ঠান। নিকট অতীতে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। এরপরের কথা অনেকটাই কাব্যকথার মিশ্রণে জীবনের ঘটে যাওয়া অনেক ঘাত-অভিঘাতসমৃদ্ধ উপখ্যান। কথা নয়, যেন প্রাঞ্জলতা ভরপুর গান, যেন সুরের মূর্ছনায় আপাত খেইহারা ভাবের গভীরে আকণ্ঠ নিমজ্জমান স্পন্দিত অস্তিত্ব। মানুষ তার সমৃদ্ধ সেই গুণগুলেকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। মহত্তম উদ্যোগ, পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও সর্বোপরি মনের দৃঢ়তা ও সুদূরপ্রসারী সংকল্প নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করলে অভীষ্ট লক্ষ্যে অবগাহন অবশ্যম্ভাবী। প্রায় তিন যুগের বেশি সময়ে তথা আটত্রিশ বছরের অধিক সময় তিনি মানিকগঞ্জের মেয়র ছিলেন। সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাৎকার নেই আমি। এখানে সেই সাক্ষাৎকার হুবহু তুলে ধরা হলো।]

নুরুল হক: আমার মা। যিনি প্রায় শতবর্ষী এক সম্ভ্রান্ত মহিলা। জানি না, কিভাবে আপনাকে চেনেন। এমনভাবে ইদানীং বাংলদেশের গ্রামে-গঞ্জে অনেকের সঙ্গে আপনাকে নিয়ে কথা বলেছি। প্রায় সবাই আপনার নাম জানে। দামি পণ্যের মতোই আমাদের এ পৃথিবীতে কিছুকিছু নাম ব্র্যান্ডেড হয়ে যায়। আপনারা নামটাও ঠিক সে রকমের্। মেয়র কিংবা মেয়রদের মেয়র হয়ে ওঠার আগে আপনার শৈশবের বেড়ে ওঠার কিছু কথা পাঠকদের উদ্দেশে বলুন।
রমজান আলী:
মুল কাহিনীতে আসার আগে আপনাকে আমার অভিনন্দন জানাই। মানিকগঞ্জ নিয়ে লেখা আপনার কাব্যগ্রন্থটি আমাকে উৎসর্গ করেছেন, সে কারণে নয়। কারণটা হলো ইতোপূর্বে আপনি আমাকে দেখেননি। সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে স্বার্থহীন ভালোবাসার যে প্রমাণ আপনি দিয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। আমার হৃদয়পটে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আমার শৈশব ও কৈশোরকাল বৈচিত্র্যে ভরা। কোনটা রেখে কোনটা শুরু করি তা নিয়ে প্রচণ্ড দ্বিধায় আছি। শুরুই যখন করা লাগবে তা বলছি। আমাদের একটি গাভী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ফলে আমার আব্বা আমাকে পাশের গ্রামের এক কবিরাজ থেকে ওষুধ আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন। পথিমধ্যে গণমানুষের নেতা ফজলুর রহমান সাহেবের সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ করার জন্য প্ররোচিত করলেন। আমি তখন যথাসম্ভব ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আমাদের পাশের থানার ওপর দিয়ে তার আগের দিন বয়ে গেল প্রচণ্ড ঝড়। ওষুধ আনার জন্য সঙ্গে রাখা বোতলটি ফেলে দিয়ে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতোই চলেই গেলাম আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরের গ্রামগুলোতে যেখানকার মানুষেরা যারপরনাই দুর্যোগ কবলিত ছিল। ইতোপূর্বে আমি হতাহত অত মানুষ দেখি নাই। মানুষদের আহাজারি আর লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি দেখে আমি গাভীর ওষুধের কথা এমনকি বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে বিশদিন সেই ত্রাণ বিতরণকারী দলের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন থেকেছি। এদিকে আমার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ চারদিকে রটে গেল। মাইকিং হলো। আমাকে কেউ আশপাশে দেখেছেন বলেও স্বীকারোক্তি না দেওয়ার ফলে আমার মা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

নূরুল হক: আপনার বাবা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। সমাজ সেবা আপনার রক্তের মধ্যেই ছিল। পারিবারিক ছবক পাওয়া আপনি এটিকে কিভাবে মূল্যায়নের করেন।
রমজান:
আমার বাবা মরহুম দোয়াত আলী স্বাধীনতা-উত্তর মানিকগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রশাসনের অধীন বেতিলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। প্রায় সাত বছর কাল তিনি অত্যন্ত সফলভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গেই পালন করেন যা বর্তমান মানিকগঞ্জের আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা জানেন। বাবার কাছেই আমার সমাজ সেবার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। সে বিবেচনায় বাবা আমার শিক্ষকও বটে। বাবার রক্তে খেলা করতো কিভাবে এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হবে উন্নতির শিখরে ওঠে মানুষ তথা সমাজের সেবা করবে। আমার বাবা সেই আমলের উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। মানুষ আজকাল ইউপি সদস্যদের গম চোর বলে অভিহিত করলেও সেই আমলে তেমনটি ছিল না। ওইসব লোকজন ছিলেন প্রাতঃস্মরণীয় এবং বিবেচিত হতেন সমাজের আইকন হিসেবে।

নূরুল হক: আপনি তো সার্বক্ষণিক রাজনীতিক।এখন মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ছাত্র রাজনিতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। কিভাবে রাজনৈতির প্রতি আকৃষ্ট হলেন।
রমজান:
রাজনীতি আমার ধ্যান-জ্ঞান আমার প্রার্থনা। আমার ভেতরে সেই বাল্যকালেই এ বিশ্বাস বদ্ধমূল ছিল যে পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়ার পর প্রকৃত মানুষরূপে নিজকে রূপান্তর করে মানুষকে ভালোবাসার আর দ্বিতীয় কোনো গতান্তর কিংবা বিকল্প থাকতে পারে। তাই আমি সারাজীবন মানুষের সেবায় নিজকে উৎসর্গ করতে চেয়েছি।১৯৭২ সালেই আমি সরকারি হাইস্কুলের একজন রিতিমতো ভিপি। ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাস করার পর আমি দেবেন্দ্র সরকারি কলেজে ভর্তি হই। দেবেন্দ্র কলেজে প্রথম বর্ষেই তৎকালীন প্রশাসনের রোষানলে পড়ে দেবেন্দ্র কলেজ পরিত্যাগ করতে বাধ্য হই। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে বরংগাইল কলেজ থেকে আমি উচ্চমাধ্যমিক পাস করি।
মাধ্যমিক জীবনেই আমি পৃথিবীর বড় বড় রাজনৈতিক মনীষীর জীবন কাহিনী পড়ে এবং আমার আব্বার অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে নিজকে কাঁটা বিছানো এই অমসৃণ পথ অতিক্রম করতে ব্রতী করে তুলি।

নূরুল হক: একজন প্রকৃত মানুষের ভেতর যে মানবীয় গুণ থাকা প্রয়োজন, তার অধিকাংশ গুণেই আপনি গুণান্বিত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে উঠতে বসতে পারা একজন মহত্তম রাজনীতিবিদের মূল বৈশিষ্ট্য বলে আমরা জানি। এ ব্যাপারে কিছু বলুন।
রমজান:
এ প্রসঙ্গে কিছু বলার আগেই আমার জান্নাতবাসী মা-বাবার আত্মার শান্তির জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তাদের সেভাবেই রাখেন, যেমনটি আমার মা-বাবা আমাকে রেখেছিলেন উত্তম আর নিরাপত্তায় আমার শিশুবয়সে। একথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, আমার মা-ই ছিলেন আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং প্রশাসক। পারিবারিক আচার আচরণ আদাব কায়দা জীবনের ঊষালগ্নে মায়ের কাছ থেকে শিখতে বাধ্য ছিলাম। আমার বাবা ছিলেন একজন ধনবান কৃষক। আমাদের প্রচুর জমিজমা ও গরু ছিল। সে কারণে অনেকগুলো রাখাল আমাদের বাড়িতে কাজ করতেন। এর বাইরেও নানাবিধ কাজ সামলানোর জন্য ছিল কাজের লোক। আমার আম্মাজান সে সময় থেকেই রাখাল তথা কাজের লোকদের সঙ্গে বসে একসঙ্গে খেতে দিতেন। এ ছিল আমার মায়ের নিকট থেকে পাওয়া প্রথম মৌলিক শিক্ষা, যা পরবর্তী সময়ে আমাকে গণমানুষের নেতা হয়ে উঠতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। আমাদের পরিবারে কোনো বৈষম্য ছিল না। আমাদের প্রিয়নবী (স.)  বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের জান্নাত। আমার এ কথাটি মনে হলে আঁখি বিস্ফোরিত হয়ে জল নামে। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী হয়ে স্বর্ণপদক ও সনদপত্র  নিয়ে বাড়ি ফিরেও সর্বপ্রথম আমার মায়ের পদধূলি গ্রহণ করি। মা আমার সমগ্র শরীর জড়িয়ে আদর করলেন আর তার আনন্দাশ্রু আমার সমগ্র শরীরে মেখে দিলেন। আজো যেন সেই আঁখিজলের ঘ্রাণ আমার শরীরে লেগে আছে। আমার পরিপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠার এ এক অন্যতম আর্শীবাদ, যা প্রত্যেক মানুষের জন্য আবশ্যিক। আমি মায়ের নামেই প্রতিষ্ঠা করেছি বেগম জরিনা ডিগ্রি কলেজ।

আমার পরিষ্কার মনে আছে, ১৯৮৮ সালের কোনো একমাসে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাটুরিয়া এলাকায় এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে চারদিক লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আমি নিজেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেই দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ত্রাণের ব্যাবস্থা করি। এভাবেই এ এলাকায় নবগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি ঝড় দুর্যোগে আমি নিজকে মেলে ধরতাম। এমনকি ইতিহাসের মহাতাণ্ডব খ্যাত চট্টগ্রামের সামুদ্রিক ঝড়েও আমি শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি কর্নেল মালেকের নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরণ মহাযজ্ঞে অংশ নিয়েছি।

নূরুল হক: আপনাকে বাংলাদেশের জনগণ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী বলে জানে। আপনার প্রতিষ্ঠিত অগনিত শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান অনেকের কাছেই একধরনের বিস্ময় এবং রোমাঞ্চকর বটে। অনুগ্রহপূর্বক ব্যাখ্যা দিন।
রমজান:
মানিকগঞ্জের জনগণের ওপর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, এ যাবত আমি সরাসরি ১০৬টি শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রমজান আলী কলেজ জয়রা, রমজান আলী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, বরুণ্ডি, দোয়াত আলী মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, বেগম জরিনা ডিগ্রি কলেজ, আফরোজা রমজান গার্লস হাইস্কুল মানিকগঞ্জ, রামিম ইবনে রমজান ক্যাডেট মাদ্রাসা, মানিকগঞ্জ, হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মানিকগঞ্জ, খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মানিকগঞ্জ, রামিম ইবনে রমজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মালুচি, শিবালয়, রমজান আলী উচ্চ বিদ্যালয় ত্বরা, রামিম ইবনে রমজান স্কুল, পশ্চিম বঙ্গ ভারত, আমেরিকার বোস্টন শহরে তিনটি স্কুলসহ দেশে-বিদেশে প্রায় ১০৬টি শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করি। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কয়েক হাজার পুরুস্কার অর্জন করি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: Best devotee of education., Dhaka division in national level, 1999. Awarded gold medal for Asia in the event of Education and Social welfare from Dr. Denesh Chandra Sen Research Society West Bengal India. Achieved Master Da Surjaa Sen award West Bengal India for social and devotee for education. Achieved Fobana award from USA for best devotee of education in south Asia. Achieved crest in 2013 as a best devotee of education in south Asia from Jahangir nagar university.  এরচেয়ে বেশি পুরস্কৃত হয়েছি মানিকগঞ্জের মানুষের কাছে। তারা আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছে হৃদয় উৎসারিত করে।

নূরুল হক: বিগত প্রায় আটত্রিশ বছর ধরে আপনি মানিকগঞ্জ পৌর সভার  কখনো চেয়ারম্যান কখনো মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন। এত দীর্ঘ সময় মেয়র পদে অধিষ্ঠিত থাকার ইতিহাস বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর কোথায় আছে কি না, আমার জনা নেই। লোকমুখে শোনা যায় আপনার সফলতা ও জনপ্রিয়তা এখনো আকাশচুম্বী। বিষয়টি কিভাবে মুল্যায়ন করবেন?
রমজান:
আমাকে যদি প্রশ্ন করা হতো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি কী, তাহলে আমি দ্বিধাহীন চিত্তে অকুতোভয় সৈনিকের মতো জবাব দিতাম আমার স্ত্রী আফরোজাই আমার অন্যতম প্রাপ্তি। এর বাইরে আমার সেরা প্রাপ্তি হলো মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। আমার স্ত্রী আফরোজা সারাজীবন অনেক কষ্ট তার বুকের পাঁজরে লুকিয়ে রেখেছেন। একমাত্র পুত্র সন্তান রামীমের স্মৃতিকে শক্তিতে পরিণত করতে তার আগ্রহেই আমরা প্রতিষ্ঠা করি মাদার ফাউন্ডেশন নামক একটি অনন্য সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, যা এতদঞ্চলে জনসেবার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইতোমধ্যেই। সম্পূর্ণ সেবার মনোভাব নিয়ে ২০১০ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেন। মাদার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো দুঃস্থ ও অবহেলিত নারী পুরুষের চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করন। মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরন। ভূমিহীন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে যাবতীয় সাহায্য ও সহায়তা প্রদানপূর্বক মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালিয়ে সমাজকে এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি দেওয়া। নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করে অপরাধ ও দূষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। আমার বিশ্বাস যে চিন্তাচেতনা নিয়ে মাদার ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করেছিল, তার সবই বাস্তবায়নের পথে।

মনে পড়ে সেসব সোনালি দিনের কথা। ১৯৭৭ সালে আমি তখন দেবেন্দ্র কলেজের একাদশে পড়ি। ছাত্র থাকাকালে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আমি বিপুলসংখ্যক সংখ্যক ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হই। বাংলদেশের ইতিহাসে কনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হয়ে আমিই এক অবিস্মরণীয় কীর্তি স্থাপন করি। বয়সের ব্যাপারে সে সময়ে আমার বিরুদ্ধে খন্দকার দেলোয়ার সাহেব মামলাও করেছিলেন। এরপরই আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৭৭ থাকে ২০১৭ সাল অবধি আমি ৩৮ বছর মানিকগঞ্জ পৌর সভার নগরপিতা ছিলাম। আধুনিকতার মিশেলে নান্দনিক স্থাপত্যকলায় আমিই নগরভবনসহ বেশকটি পৌরবিপনীবিতান গড়ে তুলি। রমজান আলী সেতু (কালিগঙ্গা ) নয়াকান্দি ও শিববাড়ী সেতুসহ শতাধিক সেতু আমার হাতেই গড়ে ওঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here